রাত ১২টার পর দরজায় কে?


রাত তখন ঠিক ১২টা। চারদিকে নিস্তব্ধতা। গ্রামের শেষ প্রান্তে ছোট্ট একটি ঘরে একা বসে ছিল রাকিব। বাইরে হালকা বৃষ্টি পড়ছিল, আর মাঝে মাঝে দূরে শেয়ালের ডাক শোনা যাচ্ছিল।


হঠাৎ—


ঠক… ঠক… ঠক…


দরজায় কেউ কড়া নাড়ল।


রাকিব চমকে উঠে ঘড়ির দিকে তাকাল। রাত ১২টা ০৩ মিনিট।


এত রাতে কে আসবে?


সে দরজার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করল,

— “কে?”


কোনো উত্তর নেই।


আবার শব্দ হলো—


ঠক… ঠক… ঠক…


রাকিব দরজার ছিদ্র দিয়ে বাইরে তাকাল। কিন্তু কাউকে দেখা গেল না। শুধু বৃষ্টিতে ভেজা উঠান।


সে ফিরে আসতেই পেছন থেকে খুব আস্তে একটা কণ্ঠ ভেসে এলো—


— “রাকিব… দরজা খোলো…”


রাকিবের বুক কেঁপে উঠল।


কারণ কণ্ঠটা ছিল তার মায়ের।


কিন্তু তার মা তো তিন বছর আগে মারা গেছেন।


রাকিব ভয়ে কয়েক পা পিছিয়ে গেল। ঠিক তখনই তার ফোনে একটি মেসেজ এলো।


“দরজা খুলবে না। আমি বাইরে দাঁড়িয়ে আছি।”


মেসেজটি পাঠিয়েছে— তার মা।


রাকিবের হাত-পা ঠান্ডা হয়ে গেল।


সে ধীরে ধীরে দরজার দিকে তাকাল।


বাইরে আবার সেই কণ্ঠ—


— “রাকিব… আমি তো তোমার মা। দরজা খোলো…”


কিন্তু ফোনের মেসেজে আবার লেখা এলো—


“ওটা আমি নই।”


হঠাৎ দরজার নিচ দিয়ে একটি ছায়া দেখা গেল।


কেউ একজন দরজার ঠিক ওপাশে দাঁড়িয়ে আছে।


তারপর সেই ছায়াটি ধীরে ধীরে নিচু হয়ে দরজার ফাঁক দিয়ে ভেতরে তাকানোর চেষ্টা করল।


রাকিব চিৎকার করতে গিয়েও পারল না।


ঠিক তখনই বাইরে আজানের শব্দ ভেসে এলো।


সঙ্গে সঙ্গে দরজার ওপাশের শব্দ বন্ধ হয়ে গেল।


রাকিব সাহস করে জানালা দিয়ে বাইরে তাকাল।


উঠানে কেউ নেই।


শুধু কাদার ওপর দুটো পায়ের ছাপ।


কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হলো—


পায়ের ছাপগুলো দরজার দিকে আসেনি।


বরং দরজা থেকে বেরিয়ে গিয়ে অন্ধকারের দিকে চলে গেছে।


পরদিন সকালে রাকিব ঘুম থেকে উঠে ফোনটা হাতে নিল।


গত রাতের মেসেজটি তখনও সেখানে ছিল।


কিন্তু প্রেরকের নাম দেখে তার বুক আবার কেঁপে উঠল।


সেখানে লেখা—


“মা — ৩ বছর আগে মারা গেছেন।”


আর তার নিচে নতুন একটি মেসেজ:


“আজ রাতেও আমি আসব।”